* পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে। আমেন।।
প্রভুর দূত মারীয়াকে সংবাদ দিলেন এবং তিনি পবিত্র আত্মার প্রভাবে গর্ভবতী হলেন। প্রণাম মারীয়া......... ইত্যাদি।
দেখ, আমি প্রভুর দাসী। তোমার বাক্যানুসারে আমার গতি হোক৷ প্রণাম মারীয়া.......ইত্যাদি ।
এবং বাক্য দেহধারণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন। প্রণাম মারীয়া.....ইত্যাদি।
হে পুণ্যময়ী ঈশ্বর-জননী, আমাদের জন্য প্রার্থনা কর; যেন আমরা খ্রীষ্টের অঙ্গীকারের যোগ্য হতে পারি।
এসো, প্রার্থনা করি
প্রভু, তোমার পুত্র খ্রীষ্টের দেহধারণের সংবাদ আমরা দূতমুখে অবগত হয়েছি। আমরা অনুনয় করি, আমাদের মনোমধ্যে তোমার প্রসাদবারি বর্ষণ কর, যেন তাঁর যন্ত্রণাভোগ ও ক্রুশ দ্বারা আমরা তাঁর পুনরুত্থানের মহিমা লাভ করি। আমাদের সেই প্রভু খ্রীষ্ট দ্বারা ইহা সাধিত হোক। আমেন ।।
‘ত্রিত্বের জয়' তিনবার।
(‘পুনরুত্থান' রবিবারের প্রাতঃকাল থেকে ত্রিত্বের পূর্ববর্তী শনিবার অপরাহ্ন পর্যন্ত ‘দূত-সংবাদ' প্রার্থনাটি না বলে নিম্নোক্ত প্রার্থনাটি বলবেন। )
স্বর্গের রাণী আনন্দ কর, আল্লেলুইয়া।
কেননা যাঁকে গর্ভে ধারণ করবার যোগ্য হয়েছিলে, আল্লেলুইয়া।
তিনি আপন ব্যাক্যানুসারে
পুনরুত্থান করেছেন, আল্লেলুইয়া ।
ঈশ্বরের নিকট আমাদের মঙ্গল প্রার্থনা কর, আল্লেলুইয়া।
হে কুমারী মারীয়া, আনন্দিত ও উল্লসিত হও, আল্লেইয়া।
কেননা প্রভু সত্যই পুনরুত্থান করেছেন, আল্লেলুইয়া ।
এসো, প্রার্থনা করি
হে ঈশ্বর, তুমি নিজ পুত্র আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান দ্বারা অনুগ্রহপূর্বক এই জগৎ আনন্দময় করেছ আমরা প্রার্থনা করি, যেন তাঁর জননী কুমারী মারীয়ার দ্বারা আমরা অনন্ত জীবনের আনন্দ লাভ করি। আমাদের সেই প্রভু খ্রীষ্ট দ্বারা ইহা সাধিত হোক। আমেন।।
'ত্রিত্বের জয়' তিনবার
হে ঈশ্বর, আমি বিশ্বাস করি যে, তুমি এই স্থানে বিদ্যমান আছ। আমি তোমারই ভক্ত ও আমি তোমার পূজা করি। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ! তোমার পুত্রের রক্তে আমার পরিত্রাণ সাধন করেছ। পবিত্র আত্মার প্রসাদে আমাকে পরিশুদ্ধ করেছ; গত রাত্রে সমস্ত অনর্থ থেকে আমাকে রক্ষা করেছ এবং তোমার সেবায় এই দিনে আমাকে উপনীত করেছ। এই সকল ও অন্যান্য অনুগ্রহের প্রতিদানে আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিই ও তোমার কাছে মিনতি করি যেন আজ সকল বিষয়ে তোমার আদেশ পালন করি, তোমাকে কোন প্রকারে অসন্তুষ্ট না করি এবং তোমার কৃপা লাভ করি। আমেন।।
প্রভুর প্রার্থনা ঃ হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পূজিত হোক; তোমার রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হোক; তোমার ইচ্ছা যেমন স্বর্গে তেমনই মর্ত্য্যেও পূর্ণ হোক। আমাদের দৈনিক অন্ন আজ আমাদের দাও; আমরা যেমন অন্যের অপরাধ ক্ষমা করি, তেমনি তুমিও আমাদের অপরাধ ক্ষমা কর; আমাদের প্রলোভনে পড়তে দিও না, বরং অনর্থ থেকে রক্ষা কর। আমেন।।
দূতের বন্দনা : প্রণাম মারীয়া, প্রসাদপূর্ণা, প্রভু তোমার সহায়, তুমি নারীকুলে ধন্যা, তোমার গর্ভফল যীশুও ধন্য। হে পুণ্যময়ী মারীয়া, ঈশ্বর-জননী, আমরা পাপী, এক্ষণে ও আমাদের মৃত্যুকালে আমাদের মঙ্গল প্রার্থনা কর। আমেন।।
ত্রিত্বের জয় : পিতা ও পুত্র ও পবিত্র আত্মার জয় হোক; যেমন আদিতে হত, এখনও তেমনি হয় এবং যুগে যুগে চিরকাল হবে। আমেন।।
প্রেরিতগণের শ্রদ্ধামন্ত্র : স্বর্গমর্ত্যের স্রষ্টা, সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরে আমি বিশ্বাস করি। তাঁর একমাত্র পুত্র আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টে-ও আমি বিশ্বাস করি। তিনি পবিত্র আত্মার প্রভাবে কুমারী মারীয়ার গর্ভে দেহধারণ ক'রে জন্মগ্রহণ করলেন। পোত্তিয় পিলাতের শাসনকালে তিনি যন্ত্রণাভোগ করলেন, ক্রুশবিদ্ধ হলেন, মৃত্যুবরণ করলেন ও সমাধিস্থ হলেন। তিনি মৃতদের কাছে অবরোহন করলেন, তৃতীয় দিনে পুনরুত্থান করলেন এবং স্বর্গারোহন করলেন। তিনি এখন সর্বশক্তিমান পিতা ঈশ্বরের ডান পাশেই সমাসীন। জীবিত ও মৃতের বিচার করতে তিনি পুনরায় আগমন করবেন। আমি পবিত্র আত্মায় বিশ্বাস করি। পুণ্যময়ী বিশ্বজনীন খ্রীষ্টমণ্ডলী, খ্রীষ্টভক্তগণের পুণ্য-সংযোগ, পাপের ক্ষমা, শরীরের পুনরুত্থান এবং অনন্ত জীবনে-ও বিশ্বাস করি। আমেন।।
প্রণাম রাণী, কৃপাপ্রসবিনী, আমাদের জীবনস্বরূপিনী, মাধুর্য- বিধায়িনী, আশাসঞ্চারিণী প্রণাম। হেবার নির্বাসিত সন্তান আমরা, তোমার উদ্দেশে আর্তনাদ করিতেছি। এই অশ্রুপরিপ্লুত সংসারমার্গে শোকদগ্ধ ও রোরুদ্যমান হইয়া তোমার উদ্দেশে হাহাকার করিতেছি। অতএব হে পরার্থবাদিনী, আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি নিক্ষেপ কর। এই নির্বাসনের পর তোমার গর্ভফল মহাভাগ যীশুকে আমাদের সম্মুখে প্রদর্শন কর। হে দয়াবতী, হে স্নেহময়ী, হে মধুরভাষিণী কুমারী মারীয়া।
অথবা
প্রণাম রাণী, দয়াময়ী জননী আমাদের জীবন-মাধুর্যের ভরসা, তোমায় প্রণাম। হেবার নির্বাসিত সন্তান আমরা তোমার নিকট আর্তনাদ করছি। এই অশ্রুময় সংসারে আমরা তোমার উদ্দেশে রোদন ও বিলাপ করছি। হে নিত্য সাহায্যকারিণী, তোমার সদয় নয়নে আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত কর। এই নির্বাসনের পর তোমার পুত্র ধন্য যীশুকে আমাদের প্রদর্শন কর। হে দয়াময়ী, হে স্নেহময়ী, হে মাধুর্যময়ী কুমারী মারীয়া ।
রক্ষীদূতের নিকট প্রার্থনা ঃ হে আমার রক্ষী স্বর্গীয় দূত! আমি ঈশ্বরের দয়াতে তোমার হাতে সমর্পিত হয়েছি। তুমি আমাকে দীপ্তি-প্রদান, রক্ষা, সাহায্য এবং আমার উপর কর্তৃত্ব কর। আমেন।।
১। তুমি আপন প্রভু ঈশ্বরকে পূজা করবে; কেবল তার-ই সেবা করবে।
২। ঈশ্বরের নাম অনর্থক নেবে না।
৩। রবিবার দিন বিশ্রাম করে তা শুদ্ধভাবে পালন করবে।
৪। পিতা-মাতাকে সম্মান করবে।
৫। নরহত্যা করবে না।
৬। ব্যাভিচার করবে না।
৭। চুরি করবে না।
৮। মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে না।
৯। পরস্ত্রীতে লোভ করবে না।
১০। পরদ্রব্যে লোভ করবে না।
১। রবিবার ও নির্দিষ্ট পর্বে খ্রীষ্টযাগে যোগদান করবে।
২। নির্দিষ্ট দিবসে উপবাস ও মাংসাহার ত্যাগ করবে।
৩। বৎসরে অন্ততঃ একবার পুনর্মিলন-সংস্কার ও পুনরুত্থান কালে খ্রীষ্টপ্রসাদ গ্রহণ করবে।
৪। মণ্ডলীর কাজে যথাসাধ্য দান করবে।
৫। নিষিদ্ধ দিবসে বা নিষিদ্ধ সম্পর্কে বিবাহ করবে না।
১। দীক্ষাস্নান (বাপ্তিস্ম) ২। হস্তার্পণ ৩। খ্রীষ্টপ্রসাদ ৪। পুনর্মিলন ৫। পীড়িতদের তৈললেপন ৬। যাজকবরণ ৭। বিবাহ।
বিশ্বাস নিবেদনঃ হে ঈশ্বর, তোমার প্রকাশিত পুণ্যময়ী ক্যাথলিক মণ্ডলী দ্বারা প্রদর্শিত তত্ত্বে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কারণ তুমি সত্যস্বরূপ, সর্বজ্ঞ ও প্রতারণার অতীত। প্রভু, বর প্রদান কর, এই বিশ্বাসে যেন আজীবন স্থির থাকতে পারি।
আশা নিবেদনঃ হে ঈশ্বর, আমি আশা করি যে, তুমি যীশু খ্রীষ্টের পুণ্যে আমাকে পাপমুক্ত করবে, সদাচরণে নিষ্ঠা ও অনন্ত জীবন প্রদান করবে; কারণ তুমি অসীম দয়ালু, সর্বশক্তিমান ও সত্যব্রত। প্রভু, বর প্রদান কর, এই আশায় যেন আজীবন স্থির থাকতে পারি।
ভক্তি-নিবেদনঃ হে ঈশ্বর, আমি মনে-প্রাণে তোমাকে ভক্তি করি, কারণ তুমি পুণ্যতম, তুমি ভক্তিভাজন। তোমার প্রেমে আপন প্রতিবেশীকে আমি আত্মবৎ প্রীতি করি। প্রভু, বর প্রদান কর, এই ভক্তিতে যেন আজীবন স্থির থাকতে পারি।
অনুতাপ নিবেদন : হে ঈশ্বর, আমি অনুতপ্ত হয়ে আমার সকল পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি পাপ ঘৃণা করি, কেননা তদ্বারা স্বর্গসুখবিরহিত ও তোমার চরম দণ্ডের যোগ্য হয়েছি। বিশেষতঃ আমার প্রিয় ত্রাণকর্তার যাতনা ও মৃত্যুর কারণ হয়েছি এবং তোমার ঐশ্বর্য তুচ্ছ করেছি। আমি দৃঢ় সংকল্প করছি যে, তোমার প্রসাদে তোমাকে আর অসন্তুষ্ট করব করব। আমেন ।। না এবং পাপের সংস্পর্শ পরিহার
( অথবা )
সংক্ষিপ্ত অনুতাপ নিবেদন
হে ঈশ্বর, তুমি কত ভাল! অথচ আমি তোমার কাছে কত দোষী! এতে আমি বড়ই দুঃখিত। প্রভু, আমি আর পাপ করব না। হে প্রিয় যীশু, আমার প্রতি দয়া কর। আমার সব পাপ ক্ষমা কর।।